ওজন কমাতে ভাত ছাড়ার দরকার নেই, জানুন সঠিক উপায়

ওজন কমাতে ভাত ছাড়ার দরকার নেই, জানুন সঠিক উপায়
ভাত বাঙালির প্রধান খাবার। তবে ওজন কমানোর জন্য অনেকেই ভাত খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেন। পুষ্টিবিদদের মতে, সঠিক উপায়ে ভাত খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব এবং শরীরও সুস্থ থাকবে।
সঠিক রান্নার পদ্ধতি
ভাত রান্নার সময় যদি শুধু চাল ধুয়ে সরাসরি চুলায় বসানো হয়, তবে স্টার্চ বের হয় না, যা কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। তবে চাল আধা ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে সেই পানি ফেলে নতুন পানিতে ভাত রান্না করলে স্টার্চ কিছুটা বের হয়ে যায়, ফলে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কমে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রেশার কুকারে রান্না করা ভাত কম স্বাস্থ্যকর, কারণ এতে স্টার্চ ঠিকমতো বের হতে পারে না।
ভাত খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি
ভাতকে যদি ডাল, ভাজি, তরকারি, সালাদ ইত্যাদির সঙ্গে খাওয়া হয়, তবে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) কমে যায়। এসব খাবারে থাকা ফাইবার ও প্রোটিন ভাতের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। তবে শুধুমাত্র লবণ দিয়ে ফ্যান-ভাত খেলে এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কমে না।
ভাত খাওয়ার সেরা সময়
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাত খাওয়ার সেরা সময় দুপুরে। রাতে ভাত কম খাওয়া ভালো, কারণ রাতে শরীরের নড়াচড়া কম থাকে এবং কার্বোহাইড্রেটের বিপাক কম হয়।
তবে সবচেয়ে ভালো সময় হলো শরীরচর্চার (জিম) পর ভাত খাওয়া, কারণ তখন শরীর অধিক ক্যালোরি বার্ন করে, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।
ভাতের পরিমাণ কত হওয়া উচিত?
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে দিনে ৩০ গ্রাম চাল দিয়ে রান্না করা ভাত খাওয়া উচিত, যা প্রায় এক কাপ ভাতের সমান। এতে ১৫০-১৭০ কিলোক্যালোরি থাকে।
ভাতের উপকারিতা
ভাতে প্রচুর ভিটামিন বি, ফলিক অ্যাসিড ও ম্যাগনেশিয়াম থাকে, যা অন্ত্র ও ত্বকের জন্য উপকারী। বাজারে বিভিন্ন ধরনের চাল পাওয়া যায়, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- কালো চাল: অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে ভরপুর, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক।
- বাদামি চাল: ফাইবার সমৃদ্ধ, যা হজমে সহায়তা করে।
- লাল চাল: প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা শরীরের বিভিন্ন সমস্যা প্রতিরোধে সহায়তা করে।
সতর্কতা
ভাত খাওয়া বন্ধ করার পরিবর্তে সঠিক পদ্ধতিতে রান্না ও গ্রহণ করা উচিত। তবেই এটি শরীরের জন্য উপকারী হবে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করবে।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা