আন্তজার্তিক অঙ্গন

থাইল্যান্ডে আটক উইঘুরদের চীনে ফেরত পাঠানো নিয়ে উদ্বেগ

থাইল্যান্ডে আটক উইঘুরদের চীনে ফেরত পাঠানো নিয়ে উদ্বেগ

ব্যাংককে দশ বছর ধরে আটক থাকা উইঘুরদের চীনে ফেরত পাঠিয়েছে থাইল্যান্ড। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আপত্তি উপেক্ষা করে দেশটি এরই মধ্যে অন্তত ৪০ জন উইঘুরকে চীনে পাঠিয়েছে। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো সতর্ক করেছে যে, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিরা চীনে নির্যাতনের শিকার হতে পারেন এবং তাদের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গোপনীয়তার মধ্যে বিতাড়ন

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের পর এই প্রথমবার থাইল্যান্ড উইঘুরদের চীনে ফেরত পাঠাল। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এক বিশেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে ওই ৪০ জনকে চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে পাঠানো হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করার পরও থাইল্যান্ড সরকার গোপনীয়তার মধ্যে তাদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করে।

উইঘুরদের পরিস্থিতি ও চীনের অবস্থান

উইঘুররা চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শিনজিয়াং অঞ্চলের একটি মুসলিম জাতিগোষ্ঠী। দীর্ঘদিন ধরে চীনের বিরুদ্ধে এই জনগোষ্ঠীর ওপর নিপীড়ন, গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও পশ্চিমা দেশগুলো দাবি করেছে, চীন উইঘুরদের ওপর নজরদারি, বন্দিশালা, এবং জোরপূর্বক শ্রমের মতো নির্যাতন চালাচ্ছে। তবে চীন এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

থাইল্যান্ড সরকারের ব্যাখ্যা

থাইল্যান্ড সরকার জানিয়েছে, এক দশকের বেশি সময় ধরে আটক থাকা এই উইঘুরদের বিষয়ে কোনো তৃতীয় দেশ আশ্রয় দিতে এগিয়ে আসেনি। অতীতে তুরস্ক উইঘুরদের আশ্রয় দিলেও এবার তারা কোনো উদ্যোগ নেয়নি। থাই সরকারের ভাষ্য, “আমরা তাদের চীনে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কারণ দীর্ঘদিন আটকে রাখা ঠিক নয়।”

থাইল্যান্ড সরকার আরও জানায়, প্রধানমন্ত্রী পায়েতংতার্ন সিনাওয়াত্রা সম্প্রতি চীন সফরের সময় আশ্বাস পেয়েছেন যে, ফেরত পাঠানো উইঘুরদের প্রতি মানবিক আচরণ করা হবে এবং চীন তাদের যথাযথভাবে দেখভাল করবে।

অবশিষ্ট উইঘুরদের ভবিষ্যৎ

থাইল্যান্ডে এখনো আরও আটজন উইঘুর আটক রয়েছেন। এদের মধ্যে পাঁচজন অপরাধের দায়ে কারাভোগ করছেন। বাকিদের ভবিষ্যৎ কী হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো আশঙ্কা করছে, বাকি উইঘুরদেরও চীনে ফেরত পাঠানো হতে পারে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, উইঘুরদের চীনে ফেরত পাঠানো মানবাধিকারের লঙ্ঘন এবং এটি আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী।

বিশ্লেষকরা বলছেন, থাইল্যান্ডের এই সিদ্ধান্ত চীন-থাইল্যান্ড কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করবে, তবে এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে থাইল্যান্ডের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button