সারাদেশ

ঈদের অনুষঙ্গ নজরুলের গান: ‘রমজানের ঐ রোজার শেষে’ গানের জন্মকাহিনি

ঈদের অনুষঙ্গ নজরুলের গান: ‘রমজানের ঐ রোজার শেষে’ গানের জন্মকাহিনি

প্রতি বছর ঈদুল ফিতরে বাঙালির ঘরে ঘরে বাজে কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী গান— ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’। প্রায় একশ বছর ধরে এ গান হয়ে উঠেছে ঈদ-আনন্দের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু এই গানের পেছনের গল্প অনেকেরই অজানা।

আব্বাসউদ্দীনের অনুরোধে নজরুল

১৯৩১ সালে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদ কাজী নজরুল ইসলামকে অনুরোধ করেন ইসলামি গান লেখার জন্য। সে সময় বাংলার সংগীতজগতে মূলত শ্যামাসংগীতের আধিপত্য ছিল, ফলে ইসলামি গান নিয়ে কাজ করতে রাজি হয়নি গ্রামোফোন কোম্পানি।

তবে আব্বাসউদ্দীনের জোরালো চেষ্টায় অবশেষে রাজি হন কোম্পানির রিহার্সেল ইনচার্জ ভগবতী ভট্টাচার্য। এরপর নজরুল ইসলাম বসে মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে লিখে ফেলেন এই বিখ্যাত গানটি।

ঈদের দিনই জনপ্রিয়তার শিখরে

গানটি প্রকাশের পরপরই ঈদের দিন বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে বিপুল সাড়া ফেলে। কলকাতার রাস্তায়-রাস্তায়, ট্রামে, ঈদের মাঠে ছড়িয়ে পড়ে এই গানের সুর। আব্বাসউদ্দীন নিজেই ঈদের পরদিন কলকাতায় ফিরে শুনতে পান, তার পাশের একজন যুবক ট্রামে বসে গুনগুন করে গাইছে— ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে’

এরপর এই গান বাংলা মুসলিম সংস্কৃতির অংশ হয়ে ওঠে। ঈদের চাঁদ দেখা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় এই গানের বাজনা। এটি এখন বাঙালির ‘জাতীয় ঈদসংগীত’ বললেও ভুল হবে না।

নজরুলের ইসলামি গানের ধারা

এই গানের সাফল্যের পর নজরুল একের পর এক ইসলামি গান রচনা করেন, যার মধ্যে ‘ইসলামের ঐ সওদা লয়ে এলো নবীন সওদাগর’ অন্যতম। এই ধারার সূচনা নজরুলের ক্যারিয়ারে এক নতুন মাত্রা যোগ করে এবং বাংলার সংগীতজগতে ইসলামি গানের ভিত্তি মজবুত করে।

ঈদের আনন্দের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা এই গানের আবেদন আজও অমলিন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এটি বাঙালির ঈদ উদযাপনের অংশ হয়ে আছে। 🎶✨

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button